কোয়েজার কি?

কোয়েজার কি?

19 বার প্রদর্শিত
"বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (365 পয়েন্ট)
Like

1 উত্তর

কোয়েজাররা হল আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্র অথবা প্রতিবেশী। গ্যালাক্সি থেকে অতি উচ্চ বেগে নিক্ষিপ্ত কোন বস্তু। তাদের মতে অতি উচ্চবেগে নিক্ষেপণের ফলেই কোয়েজারদের লাল সরণ এত বেশি। এই মতবাদের সপক্ষেও তেমন সাক্ষ্য প্রমাণ মেলেনি। তাই বলা যায়, কোয়েজার রহস্যের পূর্ণ সমাধান এখনও হয়নি। কোয়েজার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। আমরা এ যাবৎ যে সকল বস্তু নিয়ে আলােচনা করলাম দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে আকারে গ্যালাক্সি সর্ববৃহৎ। তবে গ্যালাক্সিরা পরস্পর স্বাধীন বা নিরপেক্ষ নয়।

 এই সব গ্যালাক্সি নীহারিকারা মিলে সৃষ্টি করেছে আরেক জগৎ যাকে আমরা বলি মহাবিশ্ব। মহাবিশ্ব এক এবং অবিভাজ্য, সৃষ্টির সর্ববৃহৎ বস্তু। অর্থাৎ যা কিছু অস্তিমান তার মধ্যে মহাবিশ্ব বৃহত্তম । আপাতদৃষ্টিতে মহাবিশ্বকে স্থির এবং অসীম বলেই মনে হয়। কেননা আমরা মহাবিশ্বের যে দিকে যখনই তাকাই না কেন সব সময় একই রকম দেখা যায়। তাই অতি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ বিশ্বাস করে আসছে যে মহাবিশ্ব স্থির এবং অসীম । এই ধারণার ভিত্তিতেই নিউটন সর্বপ্রথম এক বিশ্বতত্ত্ব নির্মাণ করেন। স্বভাবতঃই এই বিশ্বতত্ত্বের ভিত্তি ছিল তাঁর গতিসূত্র এবং মহাকর্ষীয় আইন। এই তত্ত্বের মূল বক্তব্য হল, আদিতে বিশ্বের বস্তু নিচয় মােটামুটি সমরূপে বিতরিত ছিল। কিন্তু মহাকর্ষীয় আইনে স্থানিকভাবে বস্তু নিচয় বাঁধা পড়ে এক একটি বৃহদাকার বস্তু সৃষ্টি করে।

 এই বস্তুরা আবার মাধ্যাকর্ষণের টানে সন্নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে বন্ধু আহরণ করে আরাে ভর বৃদ্ধি করে। নিউটন বলেন, এভাবেই নক্ষত্র ও অন্যান্য বস্তু এবং শূন্যস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। মহাবিশ্ব সম্পর্কে নিউটনীয় এই তত্ত্বের প্রধান সমস্যা হল এই যে নক্ষত্ররা যদি বিশ্বের সর্বত্র সমরূপে বিতরিত থাকে তাহলে মহাকর্ষীয় আইনের প্রভাবে প্রত্যেক নক্ষত্রই বিশ্বের কেন্দ্রে পতিত হবে। সেক্ষেত্রে বৃহৎ মানেও মহাবিশ্ব স্থির না হয়ে গতিশীল হবে। নিউটন অবশ্য এই যুক্তিকে এভাবে খন্ডন করেছেন যে, মহাবিশ্ব যেহেতু অসীম তাই তার প্রত্যেক বিন্দুই কেন্দ্রবিন্দু। সুতরাং নক্ষত্ররা কোন বিশেষ বিন্দুতে টান অনুভব করবে না অথবা বলা যায় সবদিকে সমান টান অনুভব করবে। ফলে নক্ষত্ররা ভারসাম্য বজায় রেখে স্থিতাবস্থায় থাকবে। নিউটনের এ যুক্তি অবশ্য অকাট্য নয়।

 কেননা আমরা যদি মহাবিশ্বের একটি সীমিত অঞ্চল বিবেচনা করি তাহলে নিউটনীয় তত্ত্ব অনুসারে ওই অঞ্চলের প্রতিটি নক্ষত্র কেন্দ্রে পড়ে যেতে থাকবে। এর উপর আমরা যদি সমরূপে বিতড়িত আরাে নক্ষত্র যােগ করতে থাকি তাহলেও মূল নক্ষত্রদের গতিতে কোনরূপ পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ মহাবিশ্ব অসীম হলেও নক্ষত্ররা বৃহৎ মানে গতিহীন হতে পারে । এছাড়াও মহাবিশ্বের আরাে কতগুলাে বৈশিষ্ট্য আছে নিউটনীয় তত্ত্ব যা ব্যাখ্যা করতে অপারগ। নিউটনীয় মহাকর্ষ তত্ত্বের সীমাবদ্ধতার কথা আমরা আগেই উল্লেখ করেছি। আইনস্টাইন এই সব সীমাবদ্ধতা দূর করে তিনি তাঁর ব্যাপক অপেক্ষবাদ প্রণয়ন করেছেন। ব্যাপক অপেক্ষবাদ মূলত: মহাকর্ষীয় তত্ত্ব। ভর ও শক্তির সাথে স্থানকালের সমতা বিধান করে তিনি যে মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র সমীকরণ প্রতিষ্ঠিত করেন তার সাহায্যে তিনি স্থির’ মহাবিশ্বের এক প্রতিরূপও নির্মাণ করেছেন। মহাবিশ্বের স্থিতাবস্থা সম্পর্কে আইনস্টাইনের মনেও কোনরূপ সংশয় ছিল না। তাই বিশ্বতত্ত্ব নির্মাণে তিনি তার ক্ষেত্র সমীকরণে ইচ্ছাকৃতভাবেই একটি অতিরিক্ত >-রাশি সংযােজন করেছিলেন।

একটি মহাকর্ষ বিরােধী বল উপস্থাপন করেছিলেন যাতে মহাবিশ্ব স্থিতাবস্থায় থাকে। এই রাশিটি তাঁর কথিত সূচিতাত্ত্বিক ধ্রুবক। এই রাশিটি ব্যবহার করে তিনি প্রকৃতপক্ষে। অন্যান্য বলের মত এই বলের কোন উৎস নেই। স্থানকালের ভেতরেই এই বলের। অস্তিত্ব। আইনস্টাইন মনে করতেন, স্থানকালের একটা প্রসারণ প্রবণতা আছে। মহাবিশ্বের সমগ্র বস্তুর আকর্ষণী বল এই প্রবণতাকে নাকচ করে দিয়ে ভারসাম্য সৃষ্টি করে। তবে তিনি বলেন, মহাকর্ষ বিরােধী এই বল শুধুমাত্র মহাজাগতিক দূরত্বেই ক্রিয়াশীল। পার্থিব দূরত্বে এর মানশূন্য। সৃষ্টি তাত্ত্বিক ধ্রুবকের সাহায্যে আইনস্টাইন যে স্থির বিশ্বের প্রতিরূপ নির্মাণ করেন সে বিশ্ব সসীম, বদ্ধ এবং সীমাহীন। আমরা যদি পৃথিবী থেকে কোন ঋজু রেখা বরাবর ক্রমাগত চলতে থাকি তাহলে আমরা কখনাে বাধা প্রাপ্ত হব না। আমরা আবার আমাদের যাত্রাস্থানেই ফিরে আসব । আইনস্টাইনের এই স্থির বিশ্বের ধারণা কিন্তু তাঁর মূল ক্ষেত্র সমীকরণের সংগে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আইনস্টাইনের ক্ষেত্র সমীকরণ মূলত: একটি টেনসর সমীকরণ ।

আমাদের চার মাত্রিক জগতের জন্য এই টেনসর সমীকরণ থেকে দশটি স্বাধীন সমীকরণ পাওয়া যায়। এই সমীকরণগুলাের সাধারণ সমাধান নির্ণয় সম্ভব নয়। তবে আসন্নমানে বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা ক্ষেত্র সমীকরণের যে সব সমাধান বের করেছেন তাতে কিন্তু মহাবিশ্বের গতিশীলতাই প্রকাশ পায়।
উত্তর প্রদান করেছেন (365 পয়েন্ট)

এ সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন খুঁজে পাওয়া গেল না

17,573 টি প্রশ্ন

17,275 টি উত্তর

24 টি মন্তব্য

54,717 জন সদস্য

Answer Fair এ সুস্বাগতম, যেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।
21 Online Users
0 Member 21 Guest
Today Visits : 16213
Yesterday Visits : 43783
Total Visits : 10687133
...