নক্ষত্র থেকে কি ব্লাক hole তৈরি হয়?

নক্ষত্র থেকে কি ব্লাক hole তৈরি হয়?

69 বার প্রদর্শিত
"বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (365 পয়েন্ট)
Like

1 উত্তর

অভিযায় চাপকে বাতিল করে দিতে পারে। নক্ষত্রটি তখন স্থিতিশীলতা অর্জন। করে। তখন একে বলা হয় শ্বেত বামন নক্ষত্র। অত্যধিক সংকোচনের ফলে এই নক্ষত্রের আকার খুব ছােট হয় এবং এর পৃষ্ঠদেশ থাকে অত্যন্ত উত্তপ্ত। পরে ধীরে ধীরে এরা শীতল হতে হতে এক সময় অদৃশ্য হয়ে যায়। একটি শ্বেত বামন নক্ষত্রের ঘনত্ব প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে এক লক্ষ সত্তর হাজার মেট্রিক টনের মত।

শ্বেত বামন নক্ষত্রের জন্য ভরের একটা সীমা আছে। এই সীমা হল ১.৪ সৌরভর । ১৯৩৫ সালে সুব্রামনিয়ম চন্দ্রশেখর এই সীমা নির্ধারণ করেছিলেন। এই ভরকে তাই বলা হয় চন্দ্রশেখর সীমা। এজন্য পরবর্তীকালে তিনি নােবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। একটি নক্ষত্রের ভর যদি চন্দ্রশেখর সীমা অতিক্রম করে তাহলে অন্তিম দশায় ইলেক্টনের অপজাত চাপও আর অভিকর্ষকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। নক্ষত্রটি ক্রমাগত চুপসে যেতে থাকে এবং তার ঘনত্বও বাড়তে থাকে। পরে একটা পর্যায় আসে যখন অভিকর্ষীয় চাপ এবং ঘনত্ব এত বেড়ে যায় যে ইলেকট্রন ও প্রােটন মিশে নিউট্রনে পরিণত হয় ।

সাধারণত: নিউট্রন ভেঙে ইলেকট্রন এবং প্রােটন পাওয়া যায় । কিন্তু চাপ ও ঘনত্ব যেখানে অত্যধিক সেখানে উল্টো ক্রিয়াই ঘটে। ফলে নক্ষত্রটির অভ্যন্তরে সবটাই থাকে নিউট্রন। নিউটনও অপবর্জন নীতি মেনে চলে। ফলে অন্তিম দশায় নক্ষত্রের অভ্যন্তরভাগটা যখন সম্পূর্ণ নিউট্রনে ভর্তি হয়ে যায় তখন প্রবল অভিকর্ষ চাপকে বাধা দেয় নিউট্রনের অপজাত চাপ । তাতে যদি নক্ষত্রটি স্থিতিশীলতা অর্জন করে তাহলে সেই নক্ষত্রকে বলা হয় নিউট্রন নক্ষত্র। নিউট্রন নক্ষত্রের ঘনত্ব শ্বেত বামন নক্ষত্রের চেয়েও প্রায় একশ গুণ বেশি। নিউট্রন নক্ষত্রের এক চামচ বস্তুর ওজন পৃথিবীর কয়েক মিলিয়ন টনের মত।

নিউট্রন নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা শ্বেত বামনের চেয়েও কম। তাই সরাসরি কোন নিউট্রন নক্ষত্র দেখা যায়নি। নিউট্রন নক্ষত্র আবিষ্কৃত হয়েছে পালসার আবিষ্কারের মাধ্যমে। ১৯৬৭ সালে কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী এ. হেউইশ এবং তাঁর দল প্রথম পালসার আবিষ্কার করেন। তারপর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিনশর বেশি পালসার আবিষ্কৃত হয়েছে। জোতির্বিজ্ঞানীরা আজ নিশ্চিত যে পালসার হল ঘূর্ণায়মান নিউট্রন নক্ষত্র। কেননা ঘূর্ণায়মান একটি নিউট্রন নক্ষত্রের সংগে পালসারের পর্যবেক্ষণমূলক ফলের চমক্কার মিল রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে অবশ্য নিউট্রন নক্ষত্রের প্রথম ধারণা দেন এল.ডি, ল্যান্ডাও এবং বাদে ও জিকি (Zwicky) । নিউট্রন নক্ষত্রের ক্ষেত্রেও ভরের একটি সীমা আছে। একটি নিউট্রন নক্ষত্রের ভর অবশ্যই সৌরভরের ১.৪ গুণ থেকে তিন গুণের মধ্যে হতে হবে। ভরের এই সীমা অবশ্য আসন্ন মানে নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেননা নিউট্রন নক্ষত্রের জন্য 'অবস্থা সমীকরণ' জানা নেই। নক্ষত্রের ভর যদি তিন সৌরভরের সমান বা বেশি হয় তাহলে নিউট্রনের অপজাত চাপও (neutron degeneracy pressure) অভিকর্ষকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। তখনই শুরু হয় নক্ষত্রের প্রকৃত অভিকর্ষীয় পতন । তখন কোন বলই থাকে না প্রবল অভিকর্ষকে বাধা দেওয়ার জন্য। ফলে নক্ষত্রটি একেবারে চুপসে যায়। আইনস্টাইনের সার্বিক অপেক্ষবাদ বলে, এ জাতীয় বস্তু থেকে কোন প্রকার আলাে বা সংকেত বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না।

এই দশার নক্ষত্রকেই বলা হয় কৃষ্ণগহ্বর কৃষ্ণগহ্বরের ধারণা প্রথম দেন ফরাসি গণিতবিদ লাপলাস প্রস্তাবিত এই নক্ষত্র অবশ্য স্থিতিশীল হতে পারে না। অভিকর্ষীয় পতনের ফলে তার কৃষ্ণ গহবর হয়ে যাওয়ার কথা। তাই এই উক্তিতে লাপলাস যে অদৃশ্য বস্তুর কথা বলেছেন তা আসলে আজকের কৃষ্ণগহ্বর । লাপলাসকে তাই বলা যায় কৃষ্ণ গহ্বরের স্বপ্ন দ্রষ্টা। তবে কৃষ্ণ গহ্বর সম্পর্কে সঠিক বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রথম দেন কেজি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক জন মিচেল। ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তি বলেন, একটি তারব, নুর এবং ঘনত্ব দুই-ই শটি অত্যন্ত বেশি হয় তাহলে তার মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্র এমন প্রবল হতে পারে যে সেখান থেকে কোন আলাে নির্গত হতে পারবে না। আইনস্টাইন তার ব্যাপক অপেক্ষবাদে এই তত্ত্বটিকেই সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।

 তিনি যথার্থই দেখিয়েছেন যে অতিক্ষুদ্র আয়তনে যদি বিপুল পরিমাণ বস্তুর সমাবেশ ঘটে তাহলে তার মাধ্যাকর্ষণ এমন প্রবল হয় যে সেখান থেকে কোন আলাে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে বস্তুটিকে আর দেখা যায় না। বস্তুটিকে তাই বলা হয় কৃষ্ণগহর। প্রত্যেক কৃষ্ণগহরের একটি ঘটনা দিগন্ত (event horizon) থাকে। ঘটনা দিগন্ত হল কৃষ্ণ গহবরের চারপাশের যে অঞ্চল থেকে কোন প্রকার বিকিরণ বা কোন সংকেত বেরিয়ে আসতে পারে না তার সীমানা । কেন্দ্র থেকে ঘটনা দিগন্ত পর্যন্ত দূরত্বকে বলা হয় কৃষ্ণ গহব্বরের সােয়াজঁচিল্ড ব্যাসার্ধ । সােয়ার্জচিল্ড আসন্নমানে আইনস্টাইনের ক্ষেত্র সমীকরণের এক সমাধান বের করে এই ব্যাসার্ধ নির্ণয় করেছেন। এই ব্যাসার্ধের পরিমাপ নির্ভর করে কৃষ্ণ গহ্বরের ভয়ের উপর। আমাদের এই পৃথিবীটাকে যদি চেপে চুপে কৃষঃ গহ্বরে পরিণত করা যেত তাহলে এর সােয়ার্জচিল্ড ব্যাসার্ধ হত মাত্র ০.৮৯ সেন্টিমিটার। সূর্যটাকে যদি কৃষ্ণ গহ্বর করা হয় তাহলে তার সােয়ার্জচিল্ড ব্যাসার্ধ হবে তিন কিলােমিটারের মত।

তবে কৃষ্ণ গহ্বরের সােয়ার্জচিল্ড ব্যাসার্ধ সরাসরি মাপা যায় না। কেননা কৃষ্ণগহ্বর দেখা যায় না। তাই একটি কৃষ্ণ গহবরের আকার কতটা তা নির্ণয় করার জন্য সাধারণত: ঘটনা দিগন্তের পরিধি নির্ণয় করা হয়। আগেই বলেছি, একটি কৃষ্ণগহ্বরকে সনাক্ত করার সহজ পথ হল তার মহাকর্ষীয় টান। একটি যুগা তারার কথাই ধরা যাক। যদি এমন হয় যে যুগা তারার একটিকে দেখা যাচ্ছে না কিন্তু অপরটি পর্যায়ক্রমে একবার আমাদের দিকে আসছে আবার দূরে সরে যাচ্ছে, তাহলে বােঝা যাবে যে দৃশ্যমান নক্ষত্রটি একটি অদৃশ্য মহাকর্ষীয় বস্তুকে আবর্তন করছে। সেই অদৃশ্য বস্তুটি কৃষ্ণ গহব্বর হবে কিনা তা কিন্তু চট করে বােকা যাবে না। কেননা অদৃশ্য বস্তুটি একটি অনুজ্জ্বল তারকাও হতে পারে।
উত্তর প্রদান করেছেন (365 পয়েন্ট)

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
20 জুন 2021 "বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Arman (365 পয়েন্ট)
1 উত্তর
22 অক্টোবর 2021 "ইংরেজি শব্দার্থ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sujit Ray (10,251 পয়েন্ট)
1 উত্তর
08 অক্টোবর 2021 "ইংরেজি শব্দার্থ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sujit Ray (10,251 পয়েন্ট)
1 উত্তর
29 সেপ্টেম্বর 2021 "বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Abu Talha (4,998 পয়েন্ট)
1 উত্তর
25 সেপ্টেম্বর 2021 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল

17,573 টি প্রশ্ন

17,275 টি উত্তর

24 টি মন্তব্য

54,717 জন সদস্য

Answer Fair এ সুস্বাগতম, যেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।
11 Online Users
0 Member 11 Guest
Today Visits : 285
Yesterday Visits : 26208
Total Visits : 14533247
...