অ্যান্টি ম্যাটার কিরকম?

অ্যান্টি ম্যাটার কিরকম?

22 বার প্রদর্শিত
"বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (365 পয়েন্ট)
Like

1 উত্তর

পরমাণুর আকার আকৃতি পরমাণুর মতই। শুধু গঠন প্রকৃতি ভিন্ন । সুতরাং পরমাণুর তৈরি বস্তুকে আমরা যেহেতু পদার্থ বলি তাই বিপরীত পরমাণুর তৈরি বস্তুকে বলা যাবে বিপরীত পদার্থ বা প্রতিপদার্থ (antimatter)। যে সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ মেলে তাতে দেখা যায় আমাদের এই মহাবিশ্বটা পদার্থে (matter) তৈরি। কিন্তু এমন হতে পারে কি যে এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে কোন আলাদা জগৎ আছে যা শুধু প্রতিপদার্থে তৈরি, যেমন কোন নক্ষত্র বা কোন গ্যালাক্সি?

তত্ত্বে পদার্থের প্রতিপদার্থ আছে। সুতরাং আমাদের এই বিশ্বের একটি প্রতিবিশ্বও থাকতেই পারে। তা অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু একই মহাবিশ্বের অভ্যন্তরে একই সংগে পদার্থ ও প্রতিপদার্থের জগৎ থাকার অসুবিধা আছে। কেননা ঘটনা চক্রে যদি তারা পরস্পরের কাছাকাছি এসে পড়ে, যেমন একটি গ্যালাক্সি যদি একটি প্রতিগ্যালাক্সির কাছে গিয়ে পড়ে তাহলে সংঘর্ষে তাদের ধ্বংস অনিবার্য। তবে অনেকে মনে করেন, এমন কোন বৈজ্ঞানিক ক্রিয়া থাকতে পারে যাতে একটি গ্যালাক্সি কখনােই একটি প্রতিগ্যালাক্সির কাছে আসতে পারবে না।

 সুতরাং তেমন কোন জগৎ যদি থাকে এবং সেখানে যদি বুদ্ধিমান প্রাণীর আবির্ভাব ঘটে থাকে তাহলে তাদের দেহের প্রতিটি অণু পরমাণু হবে প্রতিপদার্থের তৈরি। তাহলে কেমন হবে সেই প্রতি মানুষেরা? বাহ্যিক দিক থেকে পৃথিবীর মানুষের সংগে তাদের কোনই পার্থক্য থাকবে না। কিন্তু তাদের প্রতিটি জীবকোষে থাকবে বিপরীত অণু পরমাণু । কাজেই পৃথিবীর মানুষ, প্রতিমানুষ থেকে সাবধান। পরস্পরের কাছে এলেই ঘটে যেতে পারে মহাবিপত্তি। সামান্য স্পর্শেই প্রচন্ড বিস্ফোরণ, মুহূর্তের মধ্যে দুজনেই বিলীন হয়ে যাবেন ।

সৃষ্টি হবে বিপুল পরিমাণ তড়িৎ চুম্বকীয় শক্তির যাতে গােটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সুতরাং যদি কখনাে ভিন্ন গ্রহের কোন অজানা মানুষের সংগে দেখা হয়েই যায় তাহলে তাদের থেকে দূরে থাকাই ভাল। মৌলিক কণিকার একটি বিশেষ ধর্ম হল চক্রণ (spin)। মনে হয় কণিকারা যেন আপন অক্ষের বিপরীতে পাক খায় । ঘূর্ণায়মান কণিকা আধানযুক্ত হলে চুম্বকের মত কাজ করে । সেক্ষেত্রে সৃষ্ট চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে কণিকার সম্ভাব্য অবস্থা কেমন হবে তা নির্ণয় জ্ঞাপক সংখ্যাকে বলা হয় চক্রন সংখ্যা। প্রত্যেক কণিকার চক্রণ সংখ্যা সুনির্দিষ্ট।

কণিকাদের অবশ্য লাটিমের মত কোন বিশেষ অক্ষ নেই। চক্ৰণ বলতে প্রকৃতপক্ষে যা বােঝায় তা হল বিভিন্ন অভিমুখে কণিকাদের কি রকম দেখায় । যে সকল কণিকার চক্রণ সংখ্যা শূন্য সব দিক থেকেই তাদের দেখাবে বিন্দুর মত। চক্রণ সংখ্যা ১ হলে সেটা দেখাবে একটি তীরের মত, ২ হলে সেটা দেখা যাবে একটি দ্বিমুখী তীরের মত ইত্যাদি। চক্রণ সংখ্যা অনুসারে সমস্ত মৌল কণাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় । যাদের চক্ৰণ ১, বিশ্বের সমস্ত পদার্থ সেই সব কণিকা দ্বারা গঠিত। যাদের চক্ৰণ সংখ্যা ০, ১, ২ সেই সব কণিকা পদার্থ কণিকার অন্তর্বর্তী বলবাহী। আমরা এখন জানি প্রকৃতিতে চারটি মৌলিক বল ক্রিয়াশীল ।

 এই বলগুলাে হল মহাকর্ষীয় বল, বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল, সবল কেন্দ্রীয় বল (strong nuclear force) এবং দুর্বল কেন্দ্রীয় বল (weak nuclear force)। সনাতন পদার্থ বিজ্ঞানে এইসব বলের কোন ব্যাখ্যা নেই । পদার্থ কণিকারা কেন এবং কিভাবে পরস্পরকে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করে এবং এই বলের উৎস কি সে সম্পর্কে চিরায়ত বিজ্ঞান কিছুই বলতে পারে না।

বস্তু কণিকারা যেন অতিপ্রাকৃত গুণের অধিকারী। কণিকার অন্তর্বর্তী বলসমূহ যেন এক ঐশীশক্তির আলাদা আলাদা প্রকাশ। আধুনিক কোয়ান্টাম তত্ত্বে প্রাকৃতিক বলসমূহের এক কণাবাদী ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। কণাবাদী বলবিদ্যায় মৌলিক বল হল পরস্পর বিনিময়যােগ্য কতগুলাে কণিকা। একটি পদার্থ কণিকা যখন একটি বলবাহী কণা নিক্ষেপ করে তখন প্রত্যাগতির কারণে তার নিজের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। নিক্ষিপ্ত কণিকাটির দ্বিতীয় কোন পদার্থ কণিকার সংগে সংঘর্ষ হলে বলবাহী কণাটি বিশােষিত হয় এবং তার ফলে দ্বিতীয় কণিকাটিরও অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। ফলে মনে হয় যেন দুটি কণিকার মধ্যে একটি বল কাজ করছে। অবশ্য বলের কণবাহী ব্যাখ্যা এত সহজ নয় । বলের প্রকৃতি নির্ভর করে বলবাহী কণার ধর্ম ও প্রকারভেদের উপর ।

 কোন কোন অবস্থায় এই সব বলবাহী কণাদের প্রত্যক্ষভাবে সনাক্ত করা যায় না। তবে তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা যায়। আবার কোন কোন অবস্থায় তারা বাস্তব কণিকার মতই বিদ্যমান থাকে। পদার্থের মৌলিক কণিকাদের একটি বিশেষ ধর্ম আছে। তাহল, একই প্রকারের দুটি কণা, যেমন দুটি ইলেকট্রন একই অবস্থায় থাকতে পারে না। বলবাহী কণিকারা কিন্তু এই নীতি মানে না। ফলে কতগুলাে কণিকার বিনিময় হবে তার কোন সীমাবদ্ধতা নেই। যত বেশি সংখ্যক কণা বিনিময় হবে অন্তর্বর্তী বল তত শক্তিশালী হবে। তবে বলের পাল্লা নির্ভর করে বলবাহী কণিকার ভরের উপর। ভর বেশি হলে বলের পাল্লা ছােট হবে, ভর কম হলে পাল্লা হবে দীর্ঘ। যদি বলবাহী কণিকার ভর শূন্য হয় তাহলে বলের পাল্লা হবে অসীম।
উত্তর প্রদান করেছেন (365 পয়েন্ট)

এ সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন খুঁজে পাওয়া গেল না

17,573 টি প্রশ্ন

17,275 টি উত্তর

24 টি মন্তব্য

54,717 জন সদস্য

Answer Fair এ সুস্বাগতম, যেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।
17 Online Users
0 Member 17 Guest
Today Visits : 12135
Yesterday Visits : 25779
Total Visits : 5851520
...