রচনা লিখুন "হাজী মুহম্মদ মহসীন" সংক্ষিপ্ত?

রচনা লিখুন "হাজী মুহম্মদ মহসীন" সংক্ষিপ্ত?

56 বার প্রদর্শিত
"বাংলা রচনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (4,617 পয়েন্ট)
Like

1 উত্তর

ভূমিকা : ধর্মানুরাগ ও দানশীলতার জন্য যারা সরণীয় হয়ে আছেন, হাজী মুহাম্মদ মহসীন তাদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর মত সর্বত্যাগী মহাপুরুষ সর্বযুগের সকল মানুষের সম্পদ। মানবপ্রেম ও দীন-দুঃখীর সেবার জন্য তিনি প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে অধিষ্ঠিত হন। জন্ম ও বংশ পরিচয় : হাজী মুহাম্মদ মহসীন ১৭৩২ খ্রিস্টাব্দে হুগলী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম হাজী ফৈজুল্লাহ। হাজী ফৈজুল্লাহ পারস্যবাসী মুসলমান ছিলেন। তিনি হুগলী শহরে ব্যবসা করতেন।


বাল্যকাল : মহসীন যখন খুব ছােট, তখন তাঁর পিতা ও মাতা দুজনেই মারা যান। সেজন্য বাল্যকালে মহসীন তার বড় বােন মনুজানের নিকট থাকতেন। শৈশবে মহসীন খুব উদাসীন ছিলেন। খেলাধুলায় তাঁর মন বসত না। এক জায়গায় চুপচাপ বসে থাকতে তিনি ভালবাসতেন।

ছাত্রজীবন : মহসীন খুব মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি সিরাজী নামক একজন মৌলভীর নিকট আরবি ও ফারসি ভাষা শিখতেন। তাঁর হস্তাক্ষর খুবই সুন্দর ছিল। তাঁর হস্তলিখিত পবিত্র কুরআন শরীফের পাণ্ডুলিপি আজও হুগলী মহাবিদ্যালয়ের পাঠাগারে সযত্নে রক্ষিত আছে।

দেশ ভ্ৰমণ : মহসীন ত্রিশ বছর বয়সে দেশ ত্যাগ করেন। কাবুল, পারস্য, মিশর, আরব প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেন। অবশেষে তিনি পবিত্র মক্কা শরীফে হজ্জ পালন করেন। সুদীর্ঘ সাতাশ বছর ভ্রমণের পর তিনি আবার দেশে ফিরে আসেন।

সম্পত্তি লাভ : মহসীনের বৈমাত্রেয় জ্যেষ্ঠা ভগ্নী মনুজান খানম মহসীনকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। দিল্লীর বাদশাহের অধীন একজন বিশিষ্ট কর্মকর্তার সাথে মনুজান খানমের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে তাকে বৈধব্য গ্রহণ করতে হয়। কিছুকাল পরে  মনুজান খানম কেগম মৃত্যুমুখে পতিত হন। কোন সন্তান না থাকায় মন্নুজান তাঁর সমস্ত সম্পত্তি মহসীনের নামে লিখে দিয়ে যান। যার ফলে মহসীনও অনেক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন।

দান : মহসীন তাঁর প্রাপ্ত সম্পত্তি নিজের সুখ-সুবিধার জন্যে ব্যয় না করে জাতি, ধর্ম, নির্বিশেষে গরিব দুঃখীদের অকাতরে দান করেন। তিনি অনেক স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তুগলীর মহসীন কলেজ, দাতব্য চিকিৎসালয় ও ইমাম বাড়ি তাঁর অমর কীর্তি। আজও বহু মুসলমান ছাত্র-ছাত্রী মহসীনের অর্থে উচ্চশিক্ষা লাভ করছে।

চরিত্র : মহসীন চিরকুমার ছিলেন। তিনি সরল জীবন-যাপন করতেন। অর্থের প্রতি তাঁর কোন লােভ লালসা ছিল না। তাঁর চরিত্র ছিল পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক। মহসীন নিরামিষ ভােজী ছিলেন। সারাদিনে একবার আহার করতেন। সকল মানুষকেই তিনি সমান চোখে দেখতেন। তাঁর চোখে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান এ ভেদাভেদ ছিল না।

উপসংহার : ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে ২৯ নভেম্বর প্রায় নব্বই বছর বয়সে হাজী মুহাম্মদ মহসীন ইন্তেকাল করেন। মহসীনের পুতঃ চরিত্র সর্বযুগেই অনুসরণীয়ওঅনুকরণীয়। তাঁর মত চরিত্রবান পুরুষ বর্তমান যুগে বিরল। তাঁর অমর কীর্তি চিরদিন মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গেসরণ করবে।

উত্তর প্রদান করেছেন (4,617 পয়েন্ট)

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
19 মে 2021 "বাংলা রচনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (4,617 পয়েন্ট)
1 উত্তর
18 মে 2021 "বাংলা রচনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (4,617 পয়েন্ট)
1 উত্তর
1 উত্তর
19 মে 2021 "বাংলা রচনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (4,617 পয়েন্ট)

17,573 টি প্রশ্ন

17,275 টি উত্তর

24 টি মন্তব্য

54,717 জন সদস্য

Answer Fair এ সুস্বাগতম, যেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।
25 Online Users
0 Member 25 Guest
Today Visits : 17411
Yesterday Visits : 46286
Total Visits : 10251242
...