এইচআইভি বা এইডস রোগে পৃথিবীর কতলক্ষ মানুষ আক্রান্ত?

এইচআইভি বা এইডস রোগে পৃথিবীর কতলক্ষ মানুষ আক্রান্ত?

14 বার প্রদর্শিত
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (4,617 পয়েন্ট)
বিস্তারিত জান্তে চাই?
Like

1 উত্তর

এইচআইভি বা এইডস আঞ্চলিক পরিস্থিতি : এশিয়া অঞ্চলে আনুমানিক ৭.৪ মিলিয়ন লােক এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছে।২০০৩ সালে প্রায় ০.৫ মিলিয়ন লােক এ অঞ্চলে মৃত্যুবরণ করেছে এবং প্রায় ১.১ মিলিয়ন লােক নতুন করে এইচআইভি সংক্রমিত হয়েছে। 

এশিয়া অঞ্চলের ভারত ও চীনে এইচআইভি মহামারী আকার ধারণ করেছে।২০০২ সালে আনুমানিক ৪.৬ মিলিয়ন লােক ভারতে এইচআইভি সংক্রমিত ছিল। বেশি সংক্রমণ ঘটেছে যৌন প্রক্রিয়ায়,তবে নেশা গ্রহণকারীদের মধ্যে ইনজেকশনের মােধ্যমে কিছু এইচআইভি সংক্রমিত হয়েছে। ভারতে দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের মণিপুর ও নাগাল্যান্ডে ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা গ্রহণকারীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বেশি।এ অঞ্চলে নেশা গ্রহণকারীদের৬০-৭০% এইচআইভি সংক্রমিত যারা অশােধিত সিরিঞ্জ ব্যবহার করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশ কম্বাডিয়া,মায়ানমার এবং থাইল্যান্ড সত্যিকার অর্থে এইডস মহামারী মােকাবিলা করছে।কম্বোডিয়ায় জাতীয়ভাবে এইচআইভি সংক্রমণের মাত্রা প্রায় ৩% যা এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ২০০৩ সালের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী মায়ানমারে এইচআইভি সংক্রমিত লােকের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৩০ হাজার।
 

এইডস প্রতিরােধযােগ্য ভয়ংকর এক সংক্রামক মরণব্যাধি। বিশ্ব মানবতার মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে এইডস।ক্রমবর্ধমান বিশ্বজনসংখ্যার সাথে পাল্লা দিয়ে এইচআইভি সংক্রমিত এবং এইডস আক্রান্ত রােগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে বিশ্বে এইডস শনাক্ত করা হয়। প্রথম দিকে এটি Gay Related Immune Disease (GRID) অর্থাৎ সমকামিতার সাথে সংশ্লিষ্ট রােগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৯৮ সালের শেষে বিশ্ব এদেরকে এ ঘাতক ব্যাধির ছােবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলাদেশের মতাে উন্নয়নশীল দেশের আর্থ-সামাজিক শিশু ও যুবক-যুবতী এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। আজকের শিশু ও যুব সমাজই আগামী দিনের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক। বিশ্ব এইডস দিবসের স্লোগান হচ্ছে-এইডস ও নারীরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ।


নাগরিক সমস্যা ও আমাদের করণীয়:
এইডস প্রতিরােধযােগ্য ভয়ংকর এক সংক্রামক মরণব্যাধি।বিশ্ব মানবতার মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে এইত
৩৭১ বরেগােষ্ঠীর ৩ কোটি ত৪ লক্ষ এ রোগে আক্রান্ত এবং এর এক-তৃতীয়াংশই যুবক-যুবতী। প্রতিদিন ৮,৫০০ এর আধক ঠামাে মারাত্মক হুমাকর সম্মুখীন হবে।প্রতি বছর ১লা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালন করা হয়। ২০০৪ সালে এইডস দিবসের স্লোগান হচ্ছে- এইডস ও নারীরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।


ইডস-বিশ্ব পরিস্থিতি : ইউএনএইডস প্রকাশিত ৪র্থ 'গ্লোবাল রিপাের্ট অন এইডস এপিডেমিক' অনুযায়ী ২০০৪ সালে
ও ৯ মিলিয়ন লােক নতুনভাবে এইচআইভি সংক্রমিত হয়েছে। আনুমানিক ৩৯.৪ মিলিয়ন লােক বর্তমানে এইচআইভ সংক্রমিত হয়েছে। শুধু ২০০৪ সালেই মৃত্যুবরণ করেছে ৩.১ মিলিয়ন লােক। সাম্প্রতিক বছরগুলােতে মহিলাদের মধ্যে সংক্রমণ যথেষ্ট বেড়েছে। ১৯৯৭ সালে এইচআইভি সংক্রমিতদের ৪১% ছিল মহিলা; ২০০২ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৫০% । নারী-পুরুষের যৌনমিলনই এইচআইভি সংক্রমণ বিস্তারের কারণ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। যেসব দেশে বিশেষ জনগােষ্ঠী যেমন ড্রাগ ব্যবহারকারী, ভাসমান জনগােষ্ঠী এবং কারাবন্দীদের মধ্যে ঘনীভূত আকারে এইচআইভি মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে সেসব দেশেও মহিলাদের মধ্যে সংক্রমণের হার উল্লেখযােগ্য।


আফ্রিকা মহাদেশে এইডস-এর চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। এ মহাদেশের ১৬টি দেশের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সের জনসংখ্যার দশভাগের এক ভাগই এইচআইভি/এইডস-এ আক্রান্ত। দক্ষিণ আফ্রিকাতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি এইচ আইভি/এইডস রােগী রয়েছে। এশিয়া মহাদেশের প্রায় ৭০ লাখ মানুষ এইচআইভি/এইডস-এ আক্রান্ত। কম্বাডিয়া, মায়ানমার, থাইল্যান্ড এবং ভারতের কয়েকটি প্রদেশে এইচআইভি/এইডস-এর প্রকোপ বেশি। এইচআইভি/এইডস শতকরা ৯০ ভাগই উন্নয়নশীল বিশ্বের।


মহিলা : বিশ্বে বর্তমানে ১৫-৪৯ বছর বয়সী ১ কোটি ৬৪ লক্ষ মহিলা এইচআইভি/এইডস-এ আক্রান্ত। এইচআইভি/ এইডস আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে মহিলারাই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ । এর অন্যতম কারণ মহিলাদের নিম আর্থ-সামাজিক অবস্থান। দৈহিক মিলনের মাধ্যমে মহিলা থেকে পুরুষের তুলনায়, পুরুষ থেকে মহিলার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তিন গুণ বেশি। জরিপে দেখা গেছে আফ্রিকা মহাদেশে তরুণদের তুলনায় তরুণীদের এইচআইভি/এইডস-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বেশি। গৃহ প্রধান যদি এইচআইভি/এইডেস-এ আক্রান্ত হয় বা মারা যায়, সেক্ষেত্রে পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব মহিলাদের বহন করতে হয়। পরিবারে স্বামী, পুত্র, ভাই বা অন্য পুরুষ সদস্য এইচআইভি/এইডস-এ আক্রান্ত হলে পরিবারের মেয়েরা তাদের পরিচর্যা করে। কিন্তু মহিলা এইচআইভি/এইডস রােগী বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিবারে নিগৃহীত হয়। শিশু হচ্ছে ৪৩ লক্ষ। প্রতিদিন প্রায় ১৬ হাজার মানুষএইআইভি তে আক্রান্ত হচ্ছে। এদের শতকরা ১০ ভাগই অনুধ্ধ্ব ১৫ বয়সী। এ পর্যন্ত ৩০ লক্ষ শিশু এইচআইভি পজেটিভ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে এবং এ পর্যন্ত ৮০ লাখ শিশুর মা এইডস-এর কারণে মারা গেছে। ২০১০ সাল নাগাদ উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি শিশু মাতৃহীন অথবা পিতৃহীন হবে অথবা মা-বাবা উভয় অভিভাবককে হারাবে। বর্তমানে কিশাের ও তরুণ বয়সী অর্থাৎ ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার মধ্যে এইচআইভি/এইডস দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। প্রতিদিন নতুন আক্রান্ত ১৬ হাজারের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ১৫ থেকে ২৪বছর বয়সী জনসংখ্যা।

শিশু, কিশাের ও তরুণ :
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রচারিত বুকলেট অনুযায়ী
বিশ্বে এ পর্যন্ত এইডস-এর কারণে মােট মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ১৮ লক্ষ। এদের মধ্যে

উত্তর প্রদান করেছেন (4,617 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
08 জুন 2021 "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (4,617 পয়েন্ট)
1 উত্তর
08 জুন 2021 "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (4,617 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর
07 অক্টোবর 2021 "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Jayantika (1,520 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর
07 অক্টোবর 2021 "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Jayantika (1,520 পয়েন্ট)
1 উত্তর
21 অক্টোবর 2021 "বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sujit Ray (10,251 পয়েন্ট)

17,573 টি প্রশ্ন

17,275 টি উত্তর

24 টি মন্তব্য

54,717 জন সদস্য

Answer Fair এ সুস্বাগতম, যেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।
21 Online Users
0 Member 21 Guest
Today Visits : 3030
Yesterday Visits : 39943
Total Visits : 6159919
...